তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে যেন দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকট চাপা পড়ে না যায়, সেদিকেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে। কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসইভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ইউএনএইচসিআর এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট দেশের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ক্যাম্পের চারপাশে ফেন্সিং এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সুনিয়ন্ত্রিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সফল হয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে কাজ করছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংস্থার সমন্বয়ে সরকার ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, শুধু দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ ও উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোলটেবিল আলোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
আলোচনায় বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য রাজনৈতিক সংকটের আড়ালে যেন দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকট চাপা পড়ে না যায়, সেদিকেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকতে হবে। কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি।
রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসইভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ইউএনএইচসিআর এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট দেশের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ক্যাম্পের চারপাশে ফেন্সিং এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সুনিয়ন্ত্রিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সফল হয়েছে। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে কাজ করছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সংস্থার সমন্বয়ে সরকার ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ পদ্ধতিতে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, শুধু দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ ও উদ্যোগ বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোলটেবিল আলোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
আলোচনায় বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন