পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রোকনা বেগম (১৮) বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকার সফি মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মো. রাকিবের (১৮) স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রোকনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিছুদিন পর তিনি নবজাতককে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, শিশুটি মারা গেছে এবং তাকে দাফনও করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম। তিনি জানান, গত ২৭ জুলাই ফোনে তাকে নাতনির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরদিন তিনি রোকনার বাবার বাড়িতে গিয়ে নাতনির কবর দেখতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এমনকি শিশুটিকে কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেটিও দেখাতে ব্যর্থ হন তারা।
এতে সন্দেহ আরও প্রবল হলে ফিরোজা বেগম বোয়ালখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘির পাড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে এক মাস বয়সী শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য আসে, নবজাতককে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, "শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘির পাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আর্থিক লোভ কিংবা অন্য কোনো কারণে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং এ কাজে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত রোকনা বেগম (১৮) বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকার সফি মেম্বার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মো. রাকিবের (১৮) স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রোকনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিছুদিন পর তিনি নবজাতককে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে অবস্থানকালে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ফোন করে জানানো হয়, শিশুটি মারা গেছে এবং তাকে দাফনও করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম। তিনি জানান, গত ২৭ জুলাই ফোনে তাকে নাতনির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরদিন তিনি রোকনার বাবার বাড়িতে গিয়ে নাতনির কবর দেখতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এমনকি শিশুটিকে কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেটিও দেখাতে ব্যর্থ হন তারা।
এতে সন্দেহ আরও প্রবল হলে ফিরোজা বেগম বোয়ালখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘির পাড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে এক মাস বয়সী শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে তথ্য আসে, নবজাতককে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, "শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে হাটহাজারী উপজেলার বড় দিঘির পাড় এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আর্থিক লোভ কিংবা অন্য কোনো কারণে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। তারা দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা, সম্ভাব্য ক্রেতা এবং এ কাজে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন