জাগো বাঁশখালী

জন দুর্ভোগ

বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি, আবেদন করেও তিন মাসে মেলেনি কার্যকর উদ্যোগ।

বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ে পৃথক দুটি আবেদন প্রেরণ করা হলেও তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফ্রিকা প্রবাসী ফরিদুল ইসলাম।তিনি জানান, গত ৪ জুন ২০২৬ বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি আবেদন পাঠানো হয়। আবেদনের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুক্তভোগী মানুষের জীবনযাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে তার দাবি।ফরিদুল ইসলামের ভাষায়, “আমার ঘরে বিদ্যুৎ জন্মায়, আমি অন্ধকারে—অন্ধকারে জন্ম নেওয়া ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশকে আলোকিত করবে কীভাবে?” তার মতে, বিদ্যুৎ এখন মানুষের বিলাসিতা নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন।স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা নিয়ে মানুষের ভোগান্তি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক পরিবার এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এমনকি অনেক শিশু-কিশোরের কাছে বিদ্যুতের সুইচ বা আধুনিক বিদ্যুৎ সুবিধা এখনো যেন অপরিচিত—যা একটি উন্নয়নশীল সমাজের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, বিদ্যুতের অভাবে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ সমস্যায় পড়েন। বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের দুর্ভোগ।ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে থাকা তরুণদের একটি অংশ নানা সামাজিক সমস্যার দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তার বক্তব্যে, বাঁশখালীর কিছু এলাকায় তরুণদের মধ্যে মাদক ও ইয়াবার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সচেতনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নও প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।নিজস্ব ভূমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবুও কেন ভোগান্তি?ফরিদুল ইসলামের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাঁশখালীর ভূখণ্ডে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রকল্প থাকলেও স্থানীয় জনগণের একটি অংশ এখনো বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে। তার প্রশ্ন, “নিজস্ব ভূমিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে বাঁশখালীর মানুষ কেন নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে?”তার দাবি, বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু সাময়িক সংস্কার বা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।জনপ্রতিনিধিদের কাছে জোরালো দাবি আদায়ের আহ্বানআসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাঁশখালীর জনগণকে নিজেদের মৌলিক দাবিগুলো নিয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদুল ইসলাম।তার মতে, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের কাছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে আনার আহ্বান জানান তিনি।ফরিদুল ইসলাম বলেন, “জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরে, তাহলে জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও জবাবদিহি ও কার্যকর উদ্যোগ দাবি করা সম্ভব।”তিনি আরও বলেন, বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনো ব্যক্তি বা একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি পুরো এলাকার মানুষের নাগরিক অধিকার ও দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিষয়। তাই দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সবশেষে বাঁশখালীর প্রতিটি ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন আফ্রিকা প্রবাসী ফরিদুল ইসলাম। 

বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি, আবেদন করেও তিন মাসে মেলেনি কার্যকর উদ্যোগ।